মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল এলাকার বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ শিক্ষক মো. শাহজাহান মাস্টারের জীবনসংগ্রামের গল্প সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিরা।
ডিবিসি নিউজে প্রকাশিত একটি মানবিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে শাহজাহান মাস্টারের কষ্টময় জীবনের বিষয়টি সবার নজরে আসে। জানা যায়, সাংবাদিক নাঈম মল্লিক বিষয়টি ডিবিসি নিউজের বরিশাল অঞ্চলের সিনিয়র সাংবাদিক জিয়াদ মাহমুদের নজরে আনেন। পরবর্তীতে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং অনেকেই তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মামুন খান শাহজাহান মাস্টারের জন্য একটি নতুন বাইসাইকেল ও এক মাসের বাজারসামগ্রী প্রদান করেন।
শনিবার শাহজাহান মাস্টারের নিজ বাড়ির সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে মামুন খানের পিতা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, সহোদর ছোট ভাই খায়রুল বাশার, সাংবাদিক নাঈম মল্লিক এবং পরিবারের সদস্যরা তার হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
নতুন সাইকেল পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহজাহান মাস্টার বলেন, “আমি আজ অনেক খুশি। আমাকে সহযোগিতা করার জন্য মামুন খান ও তার পরিবারের সকল সদস্যের জন্য দোয়া করি। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন আমার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান।”
এ বিষয়ে মামুন খান বলেন, “ছোট ভাই সাংবাদিক নাঈম মল্লিকের মাধ্যমে ডিবিসি নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক জিয়াদ মাহমুদ ভাইয়ের নজরে শাহজাহান স্যারের বিষয়টি আসে। পরে ডিবিসি নিউজে একটি চমৎকার মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের মাধ্যমেই আমরা স্যারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, “শাহজাহান স্যার আমার শিক্ষক ছিলেন। আমি তার কাছে ইংরেজি প্রাইভেট পড়েছি। তিনি আমার ইংরেজি শিক্ষার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন। তার সেই শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার ফলেই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। শুধু আমি নই, শহীদ ওসমান বিন হাদীসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী তার স্নেহ, মমতা ও শিক্ষার ঋণে ঋণী। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্মৃতি ও গল্প রয়েছে।”
মামুন খান আরও বলেন, “আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া যে আজ স্যারের হাতে একটি নতুন বাইসাইকেল ও এক মাসের বাজারসামগ্রী তুলে দিতে পেরেছি। আমার শ্রদ্ধেয় বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, সহোদর ছোট ভাই খায়রুল বাশার, সাংবাদিক নাঈম মল্লিক এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় এই সামান্য উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। একজন শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।”
এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।
স্থানীয়দের মতে, শাহজাহান মাস্টারের মতো একজন সংগ্রামী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।