মনির হোসেন (সখিপুর উপজেলা প্রতিনিধি):
সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে টানা দুই দিন লড়াই করার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সৌদি আরব প্রবাসী যুবক শাহেদ। রবিবার ভোরে ঢাকার উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিহত শাহেদ উপজেলার প্রতিমাবাংকী গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের ছেলে। জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত থাকলেও প্রায় এক মাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন। কিন্তু পরিবারের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আগেই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের ইতি টেনে দিল।
জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সখীপুর পৌর এলাকার জেলখানা মোড়ের পশ্চিম পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে শাহেদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার মাথার একপাশে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার উত্তরা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রবিবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজই শাহেদের মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
একজন তরুণ প্রবাসীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, প্রবাসী সহকর্মী এবং এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
অকালেই ঝরে গেল একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসজীবনের কঠিন সংগ্রাম করা শাহেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু সত্যিই হৃদয়বিদারক। মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ শোক সইবার শক্তি দান করুন,আমিন।