খন্দকার নিরব, ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রবিবার (৭ জুন) অর্ধশতাধিক জেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনাপুর ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে মৎস্য অধিদপ্তর ২ হাজার ৭৮০ জন জেলের জন্য ৪৪৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতি জেলে ৪ মাসে মোট ১৬০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত সব জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে জনপ্রতি ৮০ কেজি করে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ নিবন্ধিত জেলেকে চাল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, চাল পাওয়ার জন্য জেলে কার্ডের ফটোকপি জমা দিলে তা গ্রহণ না করে ছিঁড়ে ফেলা হয়। প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সচিবের বিরুদ্ধে ওইসব জেলেদের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, চরাঞ্চল থেকে এসে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও তারা চাল পাননি। এতে তারা চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রিজন মেম্বার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রায় ৫ হাজার জেলের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে মাস্টাররোল অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়েছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর চাল বরাদ্দ দেয়, তবে বিতরণের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের। কয়েকজন জেলে এসে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বনি আমিন বলেন, জেলেদের চাল আত্মসাতের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।