মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি, জলাশয় ও স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দুই দিনের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অভিযানের প্রথম দিনেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। রেলওয়ের পাকশী বিভাগ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযানের প্রথম দিনে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট (হোলাহাট) এলাকায় রেলওয়ের মালিকানাধীন একটি বৃহৎ জলাশয় দখল করে নির্মিত ছয়টি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়।
একইসঙ্গে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১০টি দোকানপাটও অপসারণ করা হয়। উচ্ছেদের সময় কয়েকটি স্থাপনা মালিকপক্ষ নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিলেও অধিকাংশ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে শহর সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি জলাশয় ভরাট, আবাসিক ভবন নির্মাণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং লিজের শর্ত ভঙ্গ করে বহুতল ভবন নির্মাণের মতো নানা অনিয়মের মাধ্যমে এসব জমি বেদখল হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী রেলওয়ের পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “গোলাহাট এলাকার জলাশয়টি রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। এটি অবৈধভাবে ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু জলাশয় নয়, রেলওয়ের কোয়ার্টার, খালি জমি, কৃষি লিজের আওতাধীন ভূমি কিংবা অন্য যেকোনো রেলসম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আইন ও বিধি অনুসরণ করেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ দখলের কারণে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি জলাশয় ভরাটের ফলে পরিবেশগত ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ের কর্মকর্তা মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রধান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রেলওয়ে পুলিশ, আরএনবি সদস্য ও থানা পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দখলমুক্ত অভিযান শুধু দুই দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজন হলে এর পরিধি ও সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে সৈয়দপুরের সব অবৈধ দখল চিহ্নিত করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে।