ইমতিয়াজ উদ্দিন, জবি প্রতিনিধি:
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দিকে নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রায় ৯০০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার ও নতুন কমিটি গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। এরপর থেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন এবং তরুণ মুখ আনার চিন্তাভাবনা শুরু হয়। লবিং বা তদবিরের বাইরে সম্পূর্ণ নিজের দীর্ঘ ত্যাগ, রাজপথের আপসহীন নেতৃত্ব এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের শীর্ষ পদের দৌড়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আসলাম।
আসাদুজ্জামান আসলামের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৬ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে। গণিত বিভাগের এই মেধাবী ছাত্র পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করে। বিশেষ করে ৪ আগস্টের সিএমএম আদালত ঘেরাও আন্দোলনে তার সম্মুখভাগের সাহসিকতা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর পুরান ঢাকার পূজামণ্ডপগুলোতে রাত জেগে পাহারা দিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। সর্বশেষ তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের লাঠিপেটা ও রাজপথে গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ অসংখ্যবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আসলাম। ২০২৫ সালে জবি শাখায় নতুন কমিটি গঠনের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও তাকে আবেগঘন বিদায় জানান।
যুবদলের তৃণমূল কর্মীরা মনে করেন, আসলামের মতো একজন সৎ, সাহসী ও উচ্চশিক্ষিত নেতার অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ যুবদলকে আরও সুসংগঠিত করবে।
এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন,
”দলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের দায়িত্ব প্রদান করেন, তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করবো। তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা ও রাজনৈতিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবো।”