মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল (২৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে উপজেলার মীরগঞ্জ শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের মুজিবনগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কিবরিয়া ইসলাম পিয়েল ওই এলাকার কফদ্দি মাহমুদের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— একই এলাকার তফর উদ্দিন ওরফে তপদ্দি মাহমুদের ছেলে মাজেদুল ইসলাম (২০), তার স্ত্রী মীম আক্তার (১৮) এবং মা মোছা. তইবোন নেছা (৫০)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিবরিয়া ইসলামের সঙ্গে তার আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিবরিয়ার ওপর হামলা চালায়।
হামলায় কিবরিয়া ইসলামের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সামান্য একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।