২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় আমদানির উদ্যোগ বিপিসির, সাত দেশের ৯ সরবরাহকারীকে চিঠি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সরকারি অনুমতির পর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির উৎস নিশ্চিত করতে সাত দেশের ৯টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গত ২১ জানুয়ারি বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মণিলাল দাশ এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠান।

চিঠি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরের পেট্রোচায়না ইন্টারন্যাশনাল, পিটিটি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং ও ইউনিপেক সিঙ্গাপুর; মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল; ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি-জাপিন; কুয়েতের কেপিসি ট্রেডিং; সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ইনোক); থাইল্যান্ডের ওকিউ ট্রেডিং এবং ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন।

এই উদ্যোগের পটভূমিতে দেশে এলপিজির দামে চরম অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট চলছে। সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না—এমনকি দ্বিগুণ দামেও অনেক এলাকায় গ্যাস মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মণিলাল দাশ বলেন, সরকারের অনুমোদনের পর প্রথম ধাপে তালিকাভুক্ত ৯ সরবরাহকারীর কাছ থেকে আগ্রহপত্র চাওয়া হয়েছে। আগ্রহ প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পরবর্তীতে কোটেশন নেওয়া হবে এবং জি-টু-জি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করা হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং তারা সরকারিভাবে আমদানিকৃত এলপিজি নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত এলপিজি ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণকারী বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত দরের মধ্যেই অপারেটরদের সরবরাহ সম্ভব কি না তা যাচাই করা হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপিসি বর্তমানে সেল পারচেজ এগ্রিমেন্টের আওতায় নিয়মিত ডিজেল, জেট এ-১ ও ফার্নেস অয়েল আমদানি করে। ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রেক্ষিতে এবার এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে দুটি বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে—একটি ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টনের পার্সেল চট্টগ্রামে খালাস করা হবে; অন্যটিতে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টনের বড় পার্সেল লাইটার জাহাজের মাধ্যমে খালাসের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে, ১০ জানুয়ারি বিপিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এলপিজি আমদানির আগ্রহ জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। পরে ২০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ তিনটি শর্ত সাপেক্ষে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুসরণ এবং আমদানিকৃত গ্যাস কেবল অনুমোদিত অপারেটরদের কাছে সরবরাহ।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের মতে, দেশে বছরে ১৫ লাখ টনের বেশি এলপিজির চাহিদা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, এলসি জটিলতা এবং শীতকালে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে দেশে এলপিজির বাজার ২৫ গুণ বেড়েছে এবং বর্তমানে এটি প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। বর্তমানে ৩০টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতকরণের অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে এলপিজি আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কমেছে।

চলতি জানুয়ারিতে বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে ভোক্তাদের অনেক ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ দাম গুনতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিপিসির আমদানি উদ্যোগ বাজারে স্বস্তি ফেরাতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top