২৭শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচন ও গণভোট ভন্ডুলের অভিযোগে দিল্লির তৎপরতা: শেখ হাসিনার অডিও ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারতের নীতিনির্ধারক ও তথাকথিত ডিপ স্টেট এই নির্বাচন ও গণভোটকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেটি যেন অনুমোদন না পায়—এই লক্ষ্যেই দিল্লি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে আবারও রাজনৈতিকভাবে মাঠে নামানোর চেষ্টা এই কৌশলেরই অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে ‘সেফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি আসন্ন নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের আহ্বান জানিয়ে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লিতে এই বক্তব্য প্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এবং তাদের মিত্র শক্তিগুলোর অবস্থান দুর্বল হওয়ায় ভারত উদ্বিগ্ন। বিএনপি কিংবা জামায়াতপন্থী জোটের সম্ভাব্য শক্ত অবস্থান দিল্লির এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণেই নির্বাচনকে বিতর্কিত ও ভন্ডুল করার মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তারা মনে করছেন।

সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, দিল্লিতে আয়োজিত ওই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের নেপথ্যে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি ভূমিকা ছিল। শেখ হাসিনার ইংরেজি ও বাংলা—দুটি অডিও বার্তা রেকর্ড করা হলেও শেষ পর্যন্ত কেবল ইংরেজি ভাষার বক্তব্যই প্রচার করা হয়। বাংলায় রেকর্ড করা বক্তব্যটি অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক হওয়ায় তা প্রচার করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র ও সহিংসতা প্রতিহত করতে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সূত্র: দৈনিক আমারদেশ

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top