মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত চাড়ালকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে আশপাশের কয়েকশত একর আবাদি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতভিটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ও শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকায় নদীর তীর কেটে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রলি গাড়িতে করে বালু পরিবহন চলছে। সাংবাদিকদের প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়া ও কালুরঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। বালুবাহী ট্রলির অবাধ চলাচলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র বালুর লট ইজারার আড়ালে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে। এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বিষয়ে কথা বললেই হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে অভিযুক্ত পক্ষের একজন আলতাফ হোসেন দাবি করেন, তারা বৈধভাবে বালুর লট ইজারা নিয়েছেন এবং নিজস্ব জমির বালু উত্তোলন করছেন। যদিও এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য কোনো আলাদা অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “নদীর তীর কেটে বালু তোলায় আমাদের জমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
আরেক বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, বালুবাহী ট্রলির কারণে সড়কের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি রাতভর শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা গেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”