২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আদমদীঘিতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড মাহমুদাকে সম্মাননা ও বিদায়

সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধি:

পদোন্নতির আনন্দ আর বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্ত দুটি অনুভূতির মেলবন্ধনে বর্ণিল আয়োজনে বিদায় জানানো হলো বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানাকে। গত ২৪ মার্চ তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ২ এপ্রিল তাকে পাবনা জেলায় বদলি করা হয়। এই উপলক্ষে বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা কনফারেন্স রুমে অফিসার ক্লাবের উদ্যোগে এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রায় দেড় বছরের সফল কর্মজীবন শেষে আজ বৃহস্পতিবার আদমদীঘিতে তার শেষ কর্মদিবস পালন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তার কর্মদক্ষতা এবং  আন্তরিকতার প্রশংসা করেন।

বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল আবেগাপ্লুত অনেকের চোখেই ভেসে ওঠে অশ্রু। প্রিয় সহকর্মীকে শুভকামনা জানিয়ে সবাই তার নতুন কর্মস্থলে সাফল্য কামনা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম, মৎস্য অফিসার নাহিদ হোসেন, প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার রাশেদুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষাংশে মাহমুদা সুলতানাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

বিদায়ী বক্তব্যে তিনি সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আদমদীঘিতে কর্মজীবনের স্মৃতিগুলো গভীর আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেন। জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তার উদ্যোগে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে, দালালমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

তিনি অবৈধ মাটি উত্তোলন, খাস জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রামে দীর্ঘদিন রাজস্ব বঞ্চিত খাস জমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের বিভিন্ন সুবিধা না পাওয়ায় তার কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে৷ ফলে তাকে বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এদিকে সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নাগরিকত্ব, চারিত্রিক, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেন। সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদান নিশ্চিত করেছেন।

তিনি দায়িত্বকালীন সময়ে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড স্বচ্ছতার সঙ্গে করে দিয়েছে। এছাড়াও রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর এই সব কার্যক্রমে ইউনিয়নবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top