আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সর্বশেষ শিপিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে।
এর মধ্যে একটি ছিল ইরানের নিজস্ব পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত। সেই তুলনায় বর্তমান সংখ্যা অত্যন্ত কম।
বিআইএমসিওর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জ্যাকব লারসেন বলেছেন, অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি এখন এই পথে চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে।
তিনি জানান, জাহাজ মালিকরা পুনরায় এই রুটে ফিরতে চাইলে আগে স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা চান। বর্তমানে জাহাজগুলো ইরান ও ওমান উপকূল ঘেঁষে সংকীর্ণ বিকল্প পথ ব্যবহার করছে, যা স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়।
সামুদ্রিক চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিক এবং কপ্লার–এর তথ্য অনুযায়ী, সীমিত সংখ্যক চলাচলকারী জাহাজের মধ্যে ইরানের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার নিকি অন্যতম।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এই জাহাজটি নির্দিষ্ট গন্তব্য উল্লেখ ছাড়াই প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলায় হরমুজ প্রণালি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা