আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলি হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোজতবা খামেনি। তার শারীরিক অবস্থার কারণে ভবিষ্যতে কৃত্রিম পা ব্যবহার এবং প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি।
বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তার একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম পা ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যেখানে ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা ফিরছে। এছাড়া মুখমণ্ডল ও ঠোঁটে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে, যার জন্য ভবিষ্যতে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি মানসিকভাবে সচেতন এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিজেকে দুর্বল দেখাতে না চাওয়ায় তিনি মৌখিক বক্তব্য না দিয়ে লিখিত বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন।
তার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন মাসউদ পেজেশকিয়ান, যিনি পেশায় একজন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ।
এদিকে, সম্ভাব্য নজরদারি এড়াতে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ সীমিত করেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ফলে বর্তমানে দেশটির প্রশাসনে সামরিক প্রভাব আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।