সান্তাহারে রেলওয়ের জমিতে অবৈধ দখল: একক মিটার থেকেই চলছে প্রায় দেড় শতাধিক দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ

সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধি :

বগুড়ার সান্তাহারে রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানঘরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাত্র তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার ব্যবহার করে প্রায় দেড় শতাধিক দোকানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের অদূরে রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ফাঁকা জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানঘর। এসব দোকানের কোনোটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নয়, নেই কোনো বৈধ লিজও। অথচ প্রতিদিনই সেখানে নির্বিঘ্নে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে হলে গ্রাহকের পরিচয়, সঠিক ঠিকানা এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে বৈধ দখল (Lawful Possession) থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি বিতরণ কোম্পানির সাপ্লাই কোড মেনে চলাও জরুরি। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব শর্ত উপেক্ষা করেই চলছে বিদ্যুতের ব্যবহার। পরিদর্শনে দেখা যায়, সন্ধ্যা নামলেই সারি সারি দোকানে জ্বলে ওঠে বৈদ্যুতিক বাতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র তিনটি মিটার থেকে একাধিক দোকানে অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।

মিটারগুলো কোনো বৈধ স্থাপনায় স্থাপন না করে একটি দোকানের পেছনের দেয়ালে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে। স্থানীয় দোকানি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি দোকান থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয়। প্রতি বাতির জন্য প্রায় ২০ টাকা করে রেলগেইট ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সমিতির নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে এই অবৈধ সংযোগ ব্যবস্থা। এলাকাবাসী জানান, এর আগেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। তবে পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহল ও বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে পুনরায় সংযোগ চালু করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সান্তাহার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. উজ্জ্বল আলী বলেন, “কোনো গ্রাহক একক মিটার থেকে পার্শ্ব সংযোগ দিতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মোছা. খাদিজা খাতুন বলেন, “রেললাইনের আশপাশের ফাঁকা জায়গায় যেকোনো স্থাপনা গড়ে তোলা আইনগতভাবে অবৈধ। রেলক্রসিং এলাকা ও রেললাইনের মধ্যবর্তী স্থানে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর কোনো বৈধতা নেই।

এর আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে দোকান সরিয়ে নেওয়া হলেও দুইদিন পরে পুনরায় অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য নেসকো বরাবর একাধিকবার আবেদন পাঠানো হয়েছে এবং আবারও আবেদন পাঠানো হবে, যাতে অবৈধ দখলদারদের কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া না হয়।”

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top