১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

লালমনিরহাটে জুমার নামাজের পর বৃদ্ধকে আমগাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় বর্বরতা: লিবিয়ায় ছেলের কাজের জের ধরে নির্যাতন

​রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

​লালমনিরহাট: লালমনিরহাট সদর উপজেলায় জুমার নামাজের পবিত্র পরিবেশে এক বৃদ্ধকে আমগাছে বেঁধে নির্দয়ভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

লিবিয়ায় ছেলের কর্মসংস্থানজনিত বিরোধের জেরে এই নজিরবিহীন ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার জুম্ঘমার নামাজ শেষে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরিয়া খামারটারী গ্রামে এঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ওই এলাকার মহির উদ্দিনের ছেলে হাসানুর রহমান ভুক্তভোগী ৬২ বছর বয়সী মো. আব্দুল মোন্নাফের ছেলে মিজানুর রহমানের মাধ্যমে লিবিয়ায় কাজ করতে যান। সেখানে হাসানুর রহমানের কর্মস্থলে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আব্দুল মোন্নাফ ও তার পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল মহির উদ্দিনের পক্ষ। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

গত শুক্রবার (৮ মে), পবিত্র জুমার নামাজ শেষে আব্দুল মোন্নাফ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে। নামাজ শেষে মুসল্লিদের সামনেই তাকে টেনেহিঁচড়ে মসজিদের সামনের একটি আমগাছে নিয়ে আসা হয় এবং রশি দিয়ে গাছের সাথে শক্ত করে বাঁধা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ না দিয়েই বৃদ্ধের ওপর লাঠিসোটা দিয়ে নির্দয়ভাবে আঘাত শুরু করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্য দিবালোকে, মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যে একজন নিরপরাধ বৃদ্ধকে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হচ্ছে। বৃদ্ধ অসহায়ভাবে আর্তনাদ করছিলেন, কিন্তু হামলাকারীদের মনে কোনো দয়া ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, নির্যাতনের সময় বৃদ্ধের পকেট থেকে নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তাকে বাঁচাতে আসা তার ভাতিজা মিঠু মিয়াও হামলায় আহত হন।

নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে অবহিত করেন। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অপরাধীরা পুলিশ আসার আগেই পালিয়ে যায়। বৃদ্ধকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল মোন্নাফ নিজেই বাদী হয়ে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের বর্বরতা বরদাস্ত করা হবে না

এই নজিরবিহীন নির্যাতন সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। পবিত্র স্থানে, নামাজের পর এমন বর্বরোচিত ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। সুশীল সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top