১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

লালমনিরহাটে ভুট্টাক্ষেত থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা! ভাঙ্গচুর অগ্নিসংযোগ

​রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক হৃদয় বিধারক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের পরদিন এক প্রাক-প্রাথমিক পড়ুয়া শিশুর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ভূট্টা ক্ষেত থেকে।

গতকাল সোমবার বিকেল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া এই শিশুটির মরদেহ আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের গর্ত থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

​নিহত সাত বছর বয়সী শিশুটির নাম নন্দিনী রানী। সে ওই এলাকার সাধারণ কৃষক নলনী বর্মণের সন্তান এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। এই পৈশাচিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজিত এলাকাবাসী ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি ওই শিশু। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও তার হদিস পাননি। আজ ভোরের দিকে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের কিছু গাছ ভাঙা দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর খেতের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সদ্য খোঁড়া গর্তের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটির নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

​স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোনো লম্পট শিশুটিকে নির্জন স্থানে ফুসলিয়ে বা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশটি বস্তায় ভরে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

​এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ফলিমারী গ্রামে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে বিক্ষুব্ধ জনতা একই এলাকার বিধান চন্দ্র বর্মন ও তার পিতা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

একপর্যায়ে জনতা তাদের ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জেলা পুলিশ সুপার এবং বিজিবির একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অপরাধী সন্দেহে অবরুদ্ধ বাবা ও ছেলেকে উত্তেজিত জনতার ঘেরাওয়ের কারণে থানায় নিয়ে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

​এদিকে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত শিশুর বাবা নলনী বর্মণ দৈনিক আমার বাংলাদেশ কে জানান, তিনি অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মেযে ছিলো। আমার জানামতে কারও সাথে তার কোনো বৈরিতা নেই। গতকাল দুপুরেও তিনি মেয়ের সাথে একসাথে খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন। অবুঝ এই সন্তানটিকে যারা এভাবে নির্যাতন করে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তাদের ফাঁসি চান তিনি। একইভাবে শোকস্তব্ধ মা সাবিত্রী রানীও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

​আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্টের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্বে শিশুটি কোনো রকম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top