নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত শেষ হলে দুই-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রস্তাব দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে। পরে সেগুলো স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে পাঠানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে ইন্টারপোলের সহায়তায় একাধিক পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি কাতার থেকে হত্যা মামলার আসামি মোবারক মন্ডলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৭ জন পলাতক আসামিকে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুবাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে আদালতের পরোয়ানা, মামলার বিবরণ, অভিযোগের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হবে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, অনুবাদ ও সত্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে কূটনৈতিক মাধ্যমে তা দুবাইয়ে প্রেরণ করা হবে।
এদিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনি কৌশলের অংশ হিসেবে প্রত্যর্পণ আবেদনে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা কিছু মামলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর গ্রেফতার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অতীতেও সফলতা পেয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত কয়েকজন দণ্ডিত ও পলাতক আসামিকে বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনি বিধান ও সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর পরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছু সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয় এবং পরে দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।