২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মধ্যনগরে সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্থাপনের দাবি

জয়নাল আবেদীন জহিরুল, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাত গ্রামের হাজারো শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের অভাবে কামাউড়া, করুয়াজান, ইনতনগর, কলমা, মাছুয়াকান্দা, শাহাপুর ও বনগাঁও গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হয়। এতে তাদের শিক্ষাজীবনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত সাতটি গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য দূরবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। নদী ও হাওরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে প্রতিদিনের এই যাতায়াত শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, যা সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় ঘটায়।

এলাকাবাসীর মতে, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় বিশেষ করে ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণে নানা সমস্যা দেখা দেয়। অনেক অভিভাবক দূরের বিদ্যালয়ে মেয়েদের পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে কিছু শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর আর উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন নৌকাযোগে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে তারা নানা কষ্টের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে। শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু বলেন, সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এটি। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ আমি নিজেও দেখেছি। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা ঘরের কাছেই মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্বেগ ও আর্থিক চাপও কমবে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরাও জানান, এলাকার জনসংখ্যা ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর দাবিটি যৌক্তিক। শিক্ষা বিস্তারে সরকার সবসময় আন্তরিক। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাত গ্রামের মানুষের দাবির বিষয়টি আমি অবগত আছি। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও সরকারি নীতিমালার শর্ত পূরণ হলে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top