২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

কিশোরগঞ্জে হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার অপু

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারী ও কথিত বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ভাঙচুর, ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের প্রধান বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি খাস জমি—যার মধ্যে ১৫ শতাংশ রাস্তার পাশের জমি এবং ২৫ শতাংশ পুকুর এলাকা রয়েছে—দখল করে সেখানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি ওই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু ও ক্যামেরাম্যান তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তারা তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট জমি ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ওরফে গ্রেনেড বাবুর দখলে রয়েছে বলে জানান। এ সময় চেয়ারম্যানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু আহত হন। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, ট্রাইপড, পিটু ক্যামেরা এবং লাইভ সম্প্রচারের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং ভবিষ্যতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য সংগ্রহ বা সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করলে আরও কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক, প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন এবং দৈনিক আমার দেশ-এর জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক এক বিবৃতিতে বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”

কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”

চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু বলেন, “সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার সময় চেয়ারম্যানের লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যামেরার লেন্স ভেঙে ফেলে এবং পিটু ক্যামেরা, ট্রাইপডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়।”

এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার ঘটনায় জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top