মোঃ রকিবুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল দীর্ঘদিন ধরে মেধাবী, সচেতন ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগঠন পরিচালনার দাবি করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হওয়া নয়নকে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সচেতন মহলের দাবি, নয়নের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং তরুণ সমাজকে বিপথগামী করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমন অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে একটি কলেজভিত্তিক ছাত্র সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র নেতৃত্ব যদি এমন কারও হাতে যায় যার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তাহলে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ছাত্রীরা কতটা নিরাপদ থাকবে? শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, নৈতিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কি তখন ঝুঁকির মুখে পড়বে না?

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, ছাত্র রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। কিন্তু যদি বিতর্কিত ও অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নেতৃত্বের আসনে বসেন, তাহলে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
এলাকার অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ছাত্রদলের মতো একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক সংগঠনে কি যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কোনো শিক্ষার্থীর অভাব ছিল, যে কারণে বিতর্কিত একজন ব্যক্তিকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হলো?
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
তবে নয়নের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ছাত্রদল নেতাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।