মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চামটা ১৫ পল্লী মহাশ্মশান কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত শনিবার (২০ জুন) সকালে মন্দির এলাকায় প্রতিমার কিছু অংশ ভাঙা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আঃ হাইয়ের ছেলে শফিউদ্দিন (৩৮) মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে আটক করে। তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বালিয়াকান্দি বাজার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিউদ্দিন নামে এ পাগল অনেকদিন যাবত বালিয়াকান্দি বাজার এলাকায় চলাফেরা করতেন। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের চামটা ১৫ পল্লী মহাশ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি বাজারের আশপাশ এলাকার লোকজনের অভিযোগ রয়েছে, তাকে মন্দিরের একটি সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে বেঁধে লাকড়ি ও কলাগাছের ডাটা দিয়ে মারধর করা হয়।
এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক পলাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মারধরের বিষয়টি দেখতে পান এবং পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ আহত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রহমান তালুকদার ও সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম ও বালিয়াকান্দি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে বর্তমানে শফিক উদ্দিন পাগলের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ৮-১০ মাস ধরে এ পাগল বাজার কেন্দ্রিক চলাফেরা করতেন ও তার পারিবারিক ও এলাকাবাসীর জানান সে ও তার পরিবারের কয়েকজনই মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সুশীল সমাজের জনগণের জানিয়েছেন, একটা অরক্ষিত মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের মানসিক ভারসাম্মহীন একজন মানুষকে এ ধরনের মারধর বিষয়টি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, ওই পাগলের শারিরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।