মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
জনসেবায় বিশেষ অবদান, প্রশাসনিক দক্ষতা ও দায়িত্বশীল কর্মসম্পাদনের স্বীকৃতি হিসেবে নীলফামারীতে দুই কর্মকর্তা ও এক প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির এ স্বীকৃতি লাভ করেন। জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি আবেদনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্প, বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল আলম। বিশেষ অভিযানে ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা অর্জন করেন বালাগ্রাম সাউথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. আফজালুর রহমান। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, ধারাবাহিক ফলাফলের উন্নতি, অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার উপকরণ নিশ্চিতকরণ, নামাজঘর ও ওজুখানা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখায় তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাইদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ নুজহাত তাসনীম আওন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদসহ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভূমিসেবা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে জনসেবামুখী কর্মকাণ্ড আরও বেগবান করার নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।