মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি সড়কের গাছ কেটে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার চাঁচকৈড়-বিলদহর (সিংড়া) সড়কের দুর্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সড়কের পাশে থাকা চারটি তালগাছ, দুটি শিমুল গাছ এবং অন্যান্য প্রজাতির আরও চারটিসহ মোট ১০টি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন অভিযুক্ত আবু সাইদ। তবে রোববার পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
আইন অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ছাড়া বন, সড়ক বা সরকারি জায়গার গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ গাছ কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে পুনঃবনায়নের বিধান রয়েছে। এছাড়া সরকারি গাছ কাটার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব আইন উপেক্ষা করে সরকারি সড়কের গাছ কেটে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করছেন আবু সাইদ।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পশ্চিম পাশের গাছগুলো কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে জোরেশোরে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ১০ জন শ্রমিক নির্মাণকাজে নিয়োজিত রয়েছেন এবং কাটা গাছগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদ বলেন, তাঁর পুকুরের সামনের সড়কে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। একটি দোকান নির্মাণের প্রয়োজনেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। তবে এ জন্য তিনি বন বিভাগের কোনো অনুমোদন নেননি। পাশাপাশি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।
উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, ২০০০ সালের দিকে বন বিভাগ ও সুবিধাভোগীদের যৌথ উদ্যোগে সড়কটির উভয় পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে গাছগুলো বর্তমানে পরিপক্ব অবস্থায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির নির্ধারিত সময় শেষে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করে সুবিধাভোগীদের লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে থাকায় বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে সোমবার (২২ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগের সুবিধাভোগী দিল মোহাম্মদ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়কটিতে বন বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। গাছ বিক্রির অর্থের ৫৩ শতাংশ সুবিধাভোগীরা পাওয়ার কথা। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ নানা অজুহাতে সড়কের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।