মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
চিকিৎসা শেষে স্বামীর মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জামেলা বেগম (৫৫)। হয়তো পরিবারের সবার সঙ্গে আবার দেখা হবে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই পথচলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্বামী জামাল উদ্দিন।
সোমবার (২৯ জুন) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কের বনওয়ারী মোড় এলাকায় হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জামেলা বেগম দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ি বলদিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আহত স্বামী জামাল উদ্দিনও একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডোমার উপজেলার কাজীপাড়ায় ছেলের বাসায় অবস্থান করছিলেন জামেলা বেগম। সোমবার রাতে স্থানীয় একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে স্বামীর মোটরসাইকেলে করে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে বনওয়ারী মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা রংপুর মেট্রো-ট-১১-০৩৪২ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসা জামেলা বেগম ছিটকে পাকা সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পাশে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তার স্বামী, যার চোখের সামনেই নিভে যায় দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গীর জীবনপ্রদীপ।
খবর পেয়ে ডোমার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করেছে পুলিশ।
ডোমার থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়া গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।