পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হামলার অভিযোগে মামলা; গ্রেপ্তার ১

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বন্দক রাখা জমির পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি সম্প্রতি উপজেলার উত্তর তিতপাড়া (খালুয়াপাড়া) গ্রামে ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি হলেন একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে মো. সুমন ইসলাম (৩০)। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

মামলার বাদী ময়েন উদ্দিন (৫৭) অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের নভেম্বরে স্থানীয় হবিবার রহমান নিকি ও মনজিনা বেগম তাদের ভোগদখলীয় ১২ বিঘা জমি তার বড় ছেলে, প্রবাসী আসাদুল ইসলামের কাছে ২৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বন্দক রাখেন এবং এ সংক্রান্ত বন্দকনামায় স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে ওই ১২ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা জমি তারা আসাদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অবশিষ্ট ১০ বিঘা বন্দকী জমিতে প্রতিপক্ষ চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন এবং প্রতি মৌসুমে উৎপাদিত ফসলের নির্ধারিত অংশ বা তার সমমূল্যের অর্থ বাদীপক্ষকে প্রদান করবেন—এমন মৌখিক সমঝোতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা সেই অর্থ পরিশোধ করেননি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুন সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে বাদীর দুই ছেলে আসাদুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম এবং ভাতিজা রহমত আলী লিখনের ওপর অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তারা আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, হামলার সময় তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং ভবিষ্যতে পাওনা টাকা দাবি করলে আরও ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামলায় উল্লেখিত প্রধান অভিযুক্ত আলিনুর ইসলামসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিমলা থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো মামলার বাদীপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top