রাজবাড়ীর পাংশায় হত্যা-লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগকারীদের আইনের আওতায় আনতে এমপি হারুনের কঠোর নির্দেশ

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর পাংশায় দুই গ্রামের বাসীদের সংঘর্ষে নিহত জামির বিশ্বাসের কবর জিয়ারত, তার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান এবং সংঘর্ষ-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িঘর পরিদর্শন করেছেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ।

শুক্রবার (২৬ জুন) পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামে নিহত জামির বিশ্বাসের কবর জিয়ারত করেন। পরে তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি জামির বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এরপর এমপি হারুন অর রশিদ সংঘর্ষ-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত কসবামাজাইল গ্রামের বিভিন্ন বাড়িঘর পরিদর্শন করেন। তিনি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় উদ্ধার করা ১৮টি গবাদি পশু উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া, পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রিফাতুল হক, পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম, পাট্টা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকিদুল ইসলাম, পাংশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মোঃ রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রিংকু, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহারাম সরদার, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, পাট্টা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিশ্বাস, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম আহম্মেদ রুবেলসহ স্থানীয় স্থানীয় বিএনপি যুবদল ছাত্র নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি মোঃ হারুন-অর রশিদ পুলিশ ও ইউএনওকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ড এবং বাড়ীঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাঠের ঘটনায় কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে যেন ফাঁসানো হয়। মুল অপরাধী যারা তাদের দ্রুত চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সবার আগে আইনের আওতায় আনা হবে যারা এ ঘটনার নের্তৃত্বে দিয়েছেন। তাদের ধরতে পারলে এ অঞ্চলে আর অশান্তি হবে না। বর্তমান সরকার এ অপকর্মে জিরো টলারেন্স। ফলে বিচারের জন্য একটু ধর্য্য ধরতে হবে। এবং বিচার হবে। ইতিমধ্যে লুট হওয়া ১৮টি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাময়িক উপকারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা করা হবে।

জানাগেছে, গত রবিবার (২১ জুন) সকালে উপজেলার কশবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট ও পাট্রা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে গত শনি ও গত রবিবার কয়েকদফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় জামির বিশ্বাস (নিহত) গুরুতর সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। জমির বিশ্বাসকে প্রথম ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে এলাকায় জমির বিশ্বাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকজনের শতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরে গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে নিহত জামির বিশ্বাসের ছেলে রিপন বিশ্বাস বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। নিহত জামির বিশ্বাস উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top