দৌলতদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা, মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিহিত এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও নামীয় আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

গত ২০ জুন বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুনতাসীর হাসান খানের নেতৃত্বে দৌলতদিয়া এশিয়া বোর্ডিং এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বেলিশ্বর এলাকার মৃত আনন্দ চন্দ্র শীলের ছেলে আশীষ চন্দ্র শীল (২৬) কে গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একই অভিযানে পোড়াভিটার বাসিন্দা ফয়সালকে মাদক ও নগদ টাকাসহ আটক করে হ্যান্ডকাপ পরানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় একদল ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন সদস্য আহত হন।

ঘটনার পর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ রাসেল আলী বাদী হয়ে ফয়সাল, লাইলী বেগমসহ ২৫-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, মামলায় এ পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে নামীয় আসামি ফয়সাল ও লাইলী বেগম এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতারা দ্রুত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশাসনের ওপর হামলাকে রাষ্ট্রের আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগ যেমন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততার দাবি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, “মামলার অজ্ঞাত ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে লাইলী ও ফয়সালকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top