মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এ.কে.এম জাহাঙ্গীর বসুনিয়া রাসেল (৪৮) নামে এক সাবেক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে নীলফামারী-ডোমার মহাসড়কের নীলাহাটি কালীতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গেলে কয়েকজন যাত্রীও আহত হন।
নিহত রাসেল ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকার জাকারিয়া বসুনিয়ার ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী-ডোমার মহাসড়কের ওই অংশে সড়ক সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। সংস্কারকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খাল তৈরি হয়েছে। রাসেল তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন এড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রাসেল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা কয়েকজন যাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারী-ডোমার মহাসড়কে সংস্কারকাজ চললেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। সড়কে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নির্দেশনা না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সংস্কারাধীন অংশে বড় বড় গর্ত ও অসমতল রাস্তার কারণে যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি থানায় নেওয়া হয়েছে এবং বাসটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
সড়ক দুর্ঘটনায় একজন সাবেক সেনা সদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক সংস্কারকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।