২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

‘খাদ্য ও স্বাস্থ্যের অভিভাবক’ স্লোগানে বাকৃবিতে ভেটেরিনারি দিবস

আরাফাত হোসাইন, বাকৃবি প্রতিনিধি:

“খাদ্য ও স্বাস্থ্যের অভিভাবক” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস পালিত হয়েছে নানা আয়োজনে। দিবসটি উপলক্ষে ভেটেরিনারি অনুষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি সমাবর্তন চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের বাসভবন ও কে.আর. মার্কেট ঘুরে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। এতে অনুষদের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

র‍্যালিশেষে বাকৃবির ভিটিএইচএ দিবসটি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এসময় দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছাগলের পিপিআর ভ্যাক্সিনেশনের আয়োজন করা হয়।

বাকৃবির বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ‍মাহমুদুল আলম বলেন, বেলা ১ ঘটিকা পর্যন্ত এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চলবে। পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন স্টকে রয়েছে এবং যে কেউ ছাগল নিয়ে এসে এই ফ্রি ভ্যাকসিন দিয়ে নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্টানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. ‍মাহমুদুল আলম, অধ্যাপক ড. মোঃ মকবুল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. আলম মিয়াসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বাকৃবির বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাণী থেকে আহরিত দুধ, ডিম ও মাংস যাতে রোগজীবাণু মুক্ত থাকে এবং শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটি পরিদর্শন ও নিশ্চিত করা আমাদের পেশাদারী দায়িত্ব। এছাড়া র‍্যাবিস, অ্যানথ্রাক্স এবং ব্রুসেলোসিসের মতো মারাত্মক জুনোটিক বা প্রাণীবাহিত রোগ যাতে পশু-পাখি থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত না হতে পারে, সেজন্য আমরা নিরলসভাবে টিকাদান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। মূলত প্রাণীর সুস্বাস্থ্য রক্ষার মাধ্যমেই মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের জোগান এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানরা আজ এক অপরিহার্য অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।

এসময় প্রধান অতিথি বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভেটেরিনারিয়ানরা কেবল প্রাণীর চিকিৎসা নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের অতন্ত্র প্রহরী। প্রাণীর স্বাস্থ্য রক্ষা করলে মানুষের সুস্বাস্থ্যও নিশ্চিত হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণী সম্পদের গুরুত্ব অনেক বেশি। ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অনুযায়ী মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ওয়ার্ল্ড ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশনের মতে ভেটেরিনারিয়ানরাই স্বাস্থ্য ও খাদ্যের প্রকৃত রক্ষক। সম্মিলিতভাবে প্রাণী ও মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যাতে কাজ করি বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top