ইমতিয়াজ, জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ডিজিটাল যুগে লেখালেখির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৫ এপ্রিল (শনিবার) সকাল ৯টায় গণিত বিভাগে এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সেমিনারটিতে বর্তমান ডিজিটাল প্রেক্ষাপটে লেখালেখির চ্যালেঞ্জ, পেশা হিসেবে এর সম্ভাবনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আজকের পত্রিকা’র সহ-সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, “লেখালেখি থেকে আয় করতে চাইলে বিশেষায়ন বা নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পছন্দ ও দক্ষতা অনুযায়ী ক্ষেত্র নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে।”
অন্যতম আলোচক ও ‘দি ডেইলি সান’ এর জবি প্রতিবেদক আসাদুল ইসলাম বলেন, “আমরা শৈশব থেকেই কমবেশি লেখালেখি করি। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই বিপ্লবের যুগে যারা প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানে না, তারাই কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়ছে। তবে মনে রাখতে হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই একজন মানুষের মতো মৌলিক তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না; এটি কেবল ধারণা তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।”
সংগঠনের জবি শাখার উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের নাগিব বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক না কেন, তা কখনো একজন রক্ত-মাংসের লেখকের স্থান দখল করতে পারে না। দশটি বই পড়ার চেয়ে একজন অভিজ্ঞ মানুষের সাথে কথা বলা বেশি শিক্ষণীয়, কারণ একেকজন মানুষের জীবন একেকটি জীবন্ত পাঠাগারের সমান।”
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখিতে যুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের সংবাদপত্রে সম্পাদকীয় পদে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। মাসে ১০টি সাধারণ কলাম লেখার চেয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রবন্ধ লেখা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। লেখালেখির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।”
সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, “চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান লেখকদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তেমনি সৃজনশীল কাজের নতুন দিগন্তও উন্মোচন করেছে।” প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং একে কাজে লাগিয়ে কীভাবে উন্নত মানের প্রবন্ধ লেখা যায় এবং ব্লগিং বা মুক্ত পেশার (ফ্রিল্যান্সিং) মাধ্যমে উপার্জন করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জবি শাখার সভাপতি মুশফিকুর রহমান ইমন। সাধারণ সম্পাদক সোহান ফরাজীর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া সুলতানা রিমি।
সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক মায়িশা ফাহমিদা ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।