রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বুড়িমারীগামী ‘৭১ নম্বর কমিউটার’ ট্রেন। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনে আকস্মিক আগুন লাগার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেছেন কয়েক হাজার যাত্রী।
রবিবার (০৩এপ্রিল) বিকেলে লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেনটি হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে এর ইঞ্জিনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেললাইনের পাশে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রথম ইঞ্জিনের নিচ থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখতে পায়। তারা কালক্ষেপণ না করে চিৎকার করে ট্রেনের চালক ও পরিচালককে সতর্ক করে।
সতর্কবার্তা পেয়ে চালক দ্রুত ব্রেক চেপে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। ট্রেন থামার সাথে সাথে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং তারা দ্রুত নিচে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
খবর পেয়ে হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা আগুন নেভানোর প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিনের মবিল চেম্বারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। চাকার ঘর্ষণজনিত অতিরিক্ত তাপ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি বড় ধরনের ট্র্যাজেডিতে রূপ নিতে পারতো।
এদিকে হাতিবান্ধা স্টেশন মাস্টার জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেনটি পুনরায় বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ট্রেনের ইঞ্জিনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
এলাকাবাসীর এমন সাহসিকতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন ট্রেনের যাত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হতে পারে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।