মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পেঁয়াজ ক্রয় নিয়ে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। পেঁয়াজে অতিরিক্ত ‘ধলতা’ (ওজন বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম আর্দ্রতা বা ভেজা ভাব) না দেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা পেঁয়াজ ক্রয় বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।
জানা যায়, মঙ্গলবার (০৫ মে) সকালে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ও সোনাপুরসহ কয়েকটি হাটে পেঁয়াজ বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদার অতিরিক্ত ধলতা যুক্ত পেঁয়াজ ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, যা ওজনে বেশি দেখায়। কিন্তু অনেক সচেতন কৃষক তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজে এ ধরনের কৃত্রিম উপায় অবলম্বন না করায়, তাদের পণ্য কিনতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।
গতকাল সোমবার (০৪ মে) বালিয়াকান্দিতে কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে ওজনের অনিয়ম প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কৃষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে। এতে স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ ক্রয়ে সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় পেঁয়াজ ও আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করার বিষয়ে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপন, উপজেলা কৃষি অফিসার রতন কুমার ঘোষ, বালিয়াকান্দি থানার এসআই আল-আমিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার ভূইয়া প্রমুখ।
বহরপুর হাটে আসা আব্দুল হান্নান শেখ, আব্দুক আজিজ মোল্লা, মাজেদ মোল্লা, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল কাদের শেখ, নুরুল ইসলাম, শাহাদত প্রামানিক, কাশেম বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাজারে এলেও ক্রেতা না থাকায় বাধ্য হয়ে পণ্য নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সৎভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন করেছি। কোনো ধরনের ধলতা দেইনি। কিন্তু এখন ব্যবসায়ীরা বলছে পেঁয়াজে পানি না থাকলে তারা কিনবে না। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”
এদিকে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের দাবি, বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে তারা এমন পণ্যই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তুলনামূলকভাবে ভারী দেখায় এবং বিক্রিতে লাভজনক হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কৃষকদের ক্ষতি হয় এমন কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান না এলে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আইগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।