৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর নতুন করে আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই জয়ের পর প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিজেপি নেতাদের ‘পুশইন’ মন্তব্য এবং সীমান্ত ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

বিভিন্ন সময়ে বিজেপি নেতারা ভারতের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফলে তাৎক্ষণিকভাবে দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। তবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, একটি দেশের নির্বাচনি রাজনীতি সরাসরি পররাষ্ট্রনীতিকে পরিবর্তন করে না। তবে অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রভাব প্রতিবেশী দেশেও পড়তে পারে।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছায়নি। তবে দুই দেশের পক্ষ থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আপত্তির কথা বললেও এখন কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই জায়গাতেই বিজেপি ক্ষমতায় আসায় চুক্তিতে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।

অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিনের মতে, তিস্তা চুক্তি না হওয়ার জন্য শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী নন; কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে ফয়েজ আহমদ মনে করেন, এখন একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় তিস্তা চুক্তিতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি প্রচারণার সময় দেওয়া বক্তব্য সবসময় রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিফলিত হয় না। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসা সীমান্ত পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক না কেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। তিনি জানান, পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুশব্যাকসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top