নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর তৎপরতায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পুনর্গঠন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার আগে বা পরে নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এতে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও বেড়েছে। ত্যাগী, তরুণ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা থাকায় সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি বড় অংশ এখন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টির কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।
দলীয় নেতারা বলছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর অনেক নেতা সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে সময় কম দিতে পারছেন। এ বাস্তবতায় দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পাশাপাশি মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল নিয়েও কাজ চলছে।
সূত্র জানায়, গত এপ্রিল থেকেই অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক বৈঠকে তারেক রহমান সংগঠনের নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে যোগ্য, ত্যাগী ও তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।
দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এবার শুধু সিনিয়রিটির ভিত্তিতে নয়, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, মামলা-মোকদ্দমা ও নির্যাতনের বিষয়ও মূল্যায়ন করা হবে। যারা বিগত বছরগুলোতে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাদেরই নতুন নেতৃত্বে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ৯ মে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এ বৈঠককে পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা নতুন কমিটিতে থাকবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। ফলে দীর্ঘদিন বঞ্চিত নেতাদের সামনে নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান সংগঠককে ঘিরে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনগুলোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে নতুন কমিটি ঘোষণা হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।