সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাহবুব হোসেন (সকু) অপহরণ করে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর মামলা দায়ের হলেও অভিযুক্তরা এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, ৪নং আসামি গ্রেফতার হলেও প্রধান আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এজাহার সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মাহবুব হোসেন (৩৮), উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।তার ছোট ভাই পূর্বে ৬ শতক জমি বিক্রি করলেও পরবর্তীতে সেটি পুনরায় জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এজাহার উল্লেখ বলা হয়, গত (৮ এপ্রিল২৬) তারিখে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে মাহবুব হোসেন বাড়ির সামনে রাস্তায় মোবাইলে কথা বলার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে জোর করে ১ নং অভিযুক্ত সাদ্দামের বাড়িতে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়, ফলে তার দুই পায়ের হাঁটু ও বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক বাড়ির চাবি ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তাকে ভয় দেখিয়ে কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টাও করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাহবুব হোসেনকে প্রায় ৬ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। পরে তার স্ত্রীর খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হসপিতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ঘটনার পর থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত ৪নং আসামিকে গ্রেফতার করা হলেও রহস্য জনক ভাবে প্রধান আসামীদের গ্রেফতার করা হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দিবালোকে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদের ধরছে না। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে আদমদিঘী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, একজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বাকি আসামীদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।