মো: সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ভবন বাজার এলাকার হক ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে তেল কম দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে পেট্রোল নিতে গিয়ে দুই নারী গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী স্বপ্না রায় ও বর্ণিতা রায় জানান, তারা মোটরসাইকেলে তেল নিতে গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল সরবরাহ করে। তাদের অভিযোগ, সাধারণত ১৫০০ টাকার তেলে মোটরসাইকেলের ট্যাংক ভর্তি হলেও এদিন ১৬০০ টাকা নেওয়ার পরও ট্যাংক পূর্ণ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে পাম্পের স্টাফরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং উত্তেজিত আচরণ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর দুই নারী পাম্পের সামনেই প্রতিবাদ জানালে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত থেকে তেল পরিমাপের নির্দেশ দিলে পরীক্ষায় প্রায় ১ লিটার তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সদর ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, “পাম্প কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, “এক লিটার পর্যন্ত তেল কম পাওয়া খুবই উদ্বেগজনক বিষয়। প্রশাসনের উচিত ছিল ঘটনাস্থলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে অন্য কোনো পাম্প এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগেও এই পাম্প নিয়ে নানা অভিযোগ শুনেছি। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তবে ঘটনাস্থলে তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার পরও শুধু মৌখিক সতর্কতার মধ্যে প্রশাসনের পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অল্প পরিমাণ তেল কম দেওয়ার অভিযোগে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখানে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এর আগেও হক ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাম্প কর্তৃপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।