নিজস্ব প্রতিনিধি:
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হলেও সেই চিঠির জবাব আসবে— এমন প্রত্যাশা তার ছিল না। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে না এবং ভবিষ্যতে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হবে।
একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা কি সত্যিই উত্তর আশা করেছিলাম? আমি ব্যক্তিগতভাবে করিনি।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক স্মৃতিশক্তি দীর্ঘস্থায়ী নয় এবং সে কারণেই আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে। তার ধারণা, দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে।
সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকালে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টরা তাকে বোঝান যে, এমন সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’-এর ভূমিকা ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় ঘটনার সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে ডিপস্টেট জড়িত থাকে। তবে তারা সাধারণত চলমান পরিস্থিতির বিপরীতে নয়, বরং পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে ‘কিচেন কেবিনেট’ নামে একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপের বিষয়ে শুনেছেন, যারা নিয়মিত বৈঠক করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিত। একবার একটি উপলক্ষে তিনি ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন বলেও জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না। মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিষয়টি দেখভাল করেছেন।
তিনি বলেন, “কোনো বিশেষ কারণ বা বাধ্যবাধকতা থাকায় হয়তো সরকার চুক্তিটি করেছে। তবে এমন পরিস্থিতি না থাকলে বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই বেশি উপযুক্ত হতো।”