১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ক্লাসরুম থেকে কর্পোরেট: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের ১৫ বছরের গৌরবময় পথচলা

ইমতিয়াজ, জবি প্রতিনিধি:

ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের পেশাগত দক্ষতার সেতুবন্ধন তৈরি করে ১৫ বছর পূর্ণ করলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব (জেএনইউসিসি)। ১ জুন সংগঠনটি তাদের এই গৌরবময় পথচলার দেড় দশক উদযাপন করতে যাচ্ছে। ২০১১ সালে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে যে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সক্রিয়, প্রভাবশালী ও বৃহৎ ছাত্র-নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরুতে হাতে-গোনা কয়েকজন দূরদর্শী শিক্ষার্থী এবং ছোট পরিসরের কিছু সেমিনার দিয়ে পথচলা শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ ও সাবেক সদস্যদের যৌথ প্রচেষ্টায় এটি ক্যাম্পাসে একটি সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার সচেতনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের মূল লক্ষ্য কেবল প্রথাগত চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও নৈতিকতাসম্পন্ন পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে জীবনবৃত্তান্ত লিখন, সাক্ষাৎকার প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা, কর্পোরেট ব্যক্তিত্বদের দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ছদ্ম-সাক্ষাৎকার পর্বের মতো সময়োপযোগী কার্যক্রমের আয়োজন করে আসছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সংগঠনটি বেশ কিছু বড় মাপের প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। এর মধ্যে কর্পোরেট কেস সলভিং কম্পিটিশন, বার্ষিক ক্যারিয়ার সম্মেলন, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি, বিতর্ক ও গণবক্তৃতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির মতো আয়োজনগুলো শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের অনন্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

বিগত ১৫ বছরে এই সংগঠনের নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থায়। এই ক্লাব থেকে তৈরি হওয়া বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে সফল উদ্যোক্তা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। চমৎকার এক ঐতিহ্য বজায় রেখে এই সাবেক সদস্যরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে ফিরে এসে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং বা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য সংস্কৃতি তৈরি করেছে। এমনকি বৈশ্বিক অতিমারি কোভিড-১৯ এর সংকটের সময়েও সংগঠনটির এই অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি। সেই সময় ঘরে বন্দি থাকা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও পেশাগত উৎকর্ষ বজায় রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তারা নিয়মিত ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেমিনার, ভার্চুয়াল কর্মশালা এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশন পরিচালনা করেছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের মতে, এই দীর্ঘ যাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো এর নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও উপদেষ্টামণ্ডলী। এটি কেবল একটি সাধারণ সংগঠন নয়, বরং দলগত কাজ, সময় ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং সমস্যা সমাধানের মতো বাস্তবমুখী যোগ্যতা অর্জনের এক অনন্য জীবনমুখী পাঠশালা। ১৫ বছর পূর্তির এই মাইলফলককে সামনে রেখে সংগঠনটি এখন ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী কিছু আধুনিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা বা তথ্য-প্রযুক্তি কেন্দ্রিক চাকরির বাজার, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নতুন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা।

 

দেড় দশকের এই সফল পথচলা প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও যৌথ প্রচেষ্টা থাকলে একটি ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সংগঠনও শিক্ষার্থীদের জীবনে কতটা দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার যোগসূত্র স্থাপন করে আগামী দিনেও এই পথচলা অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top