আরাফাত হোসাইন, বাকৃবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (আইআইএফএস) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) বাকৃবির আইআইএফএস মিটিং রুমে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. জি.এম. মুজিবুর রহমান।
আইআইএফএস এর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মাহাবুব আলম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমীন এবং প্রাণ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব ইলিয়াস মৃধা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনিম্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. রায়হান হাবিব, আইআইএফএস এর সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রাণ ডেইরি লিমিটেড ও প্রাণ গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আইআইএফএস এর পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাণ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব ইলিয়াস মৃধা বলেন, বাংলাদেশকে দুগ্ধ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রাণ ডেইরি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রাণের উন্নয়ন নয়, বরং দেশে আরও অসংখ্য উদ্যোক্তা তৈরি করা। তিনি বলেন, বাকৃবির শিক্ষার্থীরাই আজ প্রাণসহ দেশের বিভিন্ন দুগ্ধ খামার ও পশুপালন খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আমরা যৌথভাবে গবেষণামূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. জি.এম. মুজিবুর রহমান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাকৃবির গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান এবং প্রাণ ডেইরির মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দেশের দুগ্ধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, এই অংশীদারিত্বের ফলে দুগ্ধ খাতের আধুনিকায়ন, উৎপাদন ও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং দুগ্ধ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।