মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় মাইক্রোবাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আদভিক (২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কালুখালী উপজেলার পাইকারা মোড় এলাকার কলেজ মোড় ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আদভিক মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন— ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী অর্জুন খেতানের পুত্রবধূ জৌতি খেতান (৩২), ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর এলাকার সুভাষের ছেলে মহাদেব (২৫), রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার শরিষা ইউনিয়নের পারডেমনামারা বাগলী বাজার এলাকার মো. সুয়াদ (৩৭), নেহেরীপাড়া এলাকার আলিমুদ্দিনের মেয়ে সেলিনা (৫০) এবং কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মহিষকুটিয়া গ্রামের মৃত মনছের আলীর ছেলে ইসলাম মণ্ডল (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাইক্রোবাস কুষ্টিয়ার দিক থেকে রাজবাড়ীর দিকে আসছিল। অপরদিকে একটি ইজিবাইক রাজবাড়ী থেকে পাংশার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে কলেজ মোড় ইটভাটার সামনে পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।
ইজিবাইকের চালকের দাবি, তার সামনে চলা একটি ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাসটি ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
গুরুতর আহত জৌতি খেতান, মহাদেব ও সেলিনাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
জানা গেছে, জৌতি খেতান তার বাবার বাড়ি জয়পুরহাট থেকে শ্বশুরবাড়ি অম্বিকাপুরে ফিরছিলেন।
দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাসের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন বলেন, “দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।