রুবেল ফরাজি, নিজস্ব প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের রামরায়ের কান্দি গ্রামে ঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও নিজ পিতা, ভাই-বোনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রব শিকদারের অভিযোগ, গত শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার বড় ছেলে মাসুদ শিকদার (৪৫) এর নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা ধারালো রামদা, ছেনদা, লোহার হাতুড়ি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় হামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রব শিকদার, তার ছেলে মো: মেহেদী হাসান (৩৪), মেয়ে অপসরা ইশরাত মুক্তি (২২) এবং জামাতা আরিফুল ইসলাম রাব্বি আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মো: রব শিকদার দাবি করেন, অভিযুক্ত মাসুদ শিকদার তার অন্য স্ত্রীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তার স্বজনদের সহায়তায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন। প্রায় ১২-১৩ বছর আগে তিনি বাবা মার সংসার ত্যাগ করে সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে চলে যায়। কয়েক বছর ধরেই তার বাবাকে সম্পত্তি ও টাকা দেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছিল। এসময় মো : রব শিকদারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ভয়ভীতি দেখিয়ে বাবার কাছে কোন সাড়া না পেয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে ভাই মো: মেহেদী হাসান কে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ভয় ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাবার সম্পত্তির অর্ধেক বাবদ ১৫,০০,০০০/- পনের লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ও নগদ এক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ এ ঘটনায় বোনকে মারধোর শুরু করে আলেপুর গ্রামের নিবাসী মো: সিরাজ শেখের ছেলে মো: আল – আমিন শেখ। তিনি প্রথমে ছোট বোন অপ্সরা ইসরাত মুক্তি কে ও হাসিনা বেগমকে এবং পরে একে একে সবাইকে ব্যাপক মারধোর করে মারাত্মক আহত করে, উক্ত চাঁদা আদায়ের জন্য হামলাকারীরা মারধরের মধ্যেই ঘরের স্টিলের আলমারি খুলে ড্রয়ার এ রাখা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ও হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। এছাড়া হামলার ভিডিও ধারণ করায় একটি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন আছাড় মেরে ও পায়ে পিষে ভেঙে ফেলা হয়, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।