১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা আলোচনায় অগ্রগতি, প্রক্রিয়ার বাইরে থাকার ইঙ্গিত ইসরাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তবে আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরাইল, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্যের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নিরসনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এর ফলে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমার পাশাপাশি কিছু বিতর্কিত এলাকায় সামরিক উপস্থিতি নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে ইসরাইল এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি ও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। একই সঙ্গে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখতে চায় তেল আবিব।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে রোববার কোনো স্বাক্ষর হচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি জানান, সম্ভাব্য ই-স্বাক্ষর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

শাহবাজ শরিফ আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমঝোতার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top