আরাফাত হোসাইন, বাকৃবি প্রতিনিধি:
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সরকারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদীয় ছাত্র সমিতির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮ টায় কর্মসূচির প্রথম পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান ও প্রক্টর মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করেন।
পরবর্তীতে সকাল ১১টায় কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিসরে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমি শিক্ষার্থীসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।
অনুষ্ঠানে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক ও ছাত্র সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে যখন বৃক্ষরোপণের বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তা ধীরে ধীরে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। আর সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হলে এটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণের পাশাপাশি অনুষদ প্রাঙ্গণেও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি।
কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী ৮০টি গাছ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল কাঠাল, আম, লেবুসহ অলকনন্দা, সাদা জবা, নীলকণ্ঠী, মুসান্ডা, স্থলপদ্ম এবং হাইব্রিড লাল রঙ্গন প্রজাতির চারা।
অনুষদীয় ছাত্র সমিতির সহ-সভাপতি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে। বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়।