১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রতিহিংসা নয়, দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবে অতীতের সেই কষ্টকে সামনে এনে প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, যার প্রভাব এখনো তার শরীরে রয়ে গেছে। তবে অতীতের ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকলে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে তিনি সবাইকে প্রতিহিংসার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “যা ক্ষতি হওয়ার হয়েছে, তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই প্রতিশোধ নয়, দেশের জন্য আমরা কী করতে পারি, সেটাই এখন ভাবতে হবে।”

গণমাধ্যমের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার সবসময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং বর্তমান সরকারও সেই পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদপত্রের কালো দিবসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করে মাত্র কয়েকটি পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের কার্যক্রম কতটা সফল হচ্ছে বা কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বুঝতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা সরকারের কাজকে আরও কার্যকর করতে পারে।

তরুণ সমাজের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মাদকাসক্তিকে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তরুণদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সারা বছর সাংস্কৃতিক, বিতর্ক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকার পরিচালনার দায়িত্ব সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং দেশের নানা সমস্যার কারণে তিনি ব্যাপক চাপ অনুভব করেন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততায় সময় দ্রুত চলে যায় এবং কাজের পরিধি এত বেশি যে অনেক সময় দিনটিকে আরও দীর্ঘ মনে হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top