২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে ঘিরে সিনিয়র-জুনিয়র সংঘর্ষ

মোছাঃ মাহমুদা আক্তার নাঈমা, জাককানইবি প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) বিদ্রোহী হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর উপর দলবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২১ জুন) রাত ১০টার দিকে বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী হান্নান আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (১৩তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী।অভিযুক্ত জুনিয়র সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ঘটনায় অভিযুক্ত জুনিয়র শিক্ষার্থীও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ রুমমেট হিসেবে থাকতেন। মুগ্ধের বিরুদ্ধে গাঁজা সেবনের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি তিনি হল প্রশাসনকে অবহিত করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম ওই কক্ষ পরিদর্শন করলে মাদকসেবনের কোনো আলামত পাননি। পরে হান্নান কক্ষে ফিরে এসে অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন।

এ নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাতে বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ হামলায় গুরুতর আহত হন হান্নান। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হলের হাউজ টিউটর খাইরুল ইসলামও আঘাতপ্রাপ্ত হন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভিডিওতে মুগ্ধ দাবি করেন, হাতাহাতির একপর্যায়ে সিনিয়র শিক্ষার্থী তাকে বুকে লাথি মারায় তিনি আহত হন। পরে তার সহযোগীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, রাত ১২টার দিকে অগ্নিবীণা হলে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের খোঁজে যান আইন ও বিচার বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। সেখানে কাউকে না পেয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে জিনিসপত্র এলোমেলো করার অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top