২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাকৃবিতে সোহরাওয়ার্দী হলের তিনদিনব্যাপী ‘ক্রিমসন হাইস্ট’ ফিস্ট সম্পন্ন

আরাফাত হোসাইন, বাকৃবি প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৫৮তম ব্যাচের আয়োজনে তিনদিনব্যাপী হল ফিস্ট ‘ক্রিমসন হাইস্ট’ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। র‍্যালি, ফুটবল ম্যাচ, ফ্ল্যাশ মব, কালার ফিস্ট, পুল পার্টি, উন্মুক্ত চা-স্টল, র‍্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যান্ড ডিনারসহ নানা আয়োজনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে হল প্রাঙ্গণ। ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছরের মতো এবারও হলের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাচের উদ্যোগে ফিস্টের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

ফিস্টের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। ঘোড়ার গাড়িকে কেন্দ্র করে আয়োজিত র‍্যালিটি হল থেকে শুরু হয়ে কে আর মার্কেট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হলে এসে শেষ হয়। এতে ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররাও অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালি শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনানুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এতে ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলের অন্যান্য ব্যাচের সমন্বয়ে গঠিত দলের বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়লাভ করে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড ও কে আর মার্কেট এলাকায় দুটি ফ্ল্যাশ মব অনুষ্ঠিত হয়। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আবহকে সামনে রেখে পরিবেশনায় ফুটবলভিত্তিক সংগীত ব্যবহার করা হয়। ফ্ল্যাশ মবের কোরিওগ্রাফি করেন হলের শিক্ষার্থী আহিল শিহাব, যার সৃজনশীল উপস্থাপনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় কেক কাটার মাধ্যমে ফিস্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আব্দুল আলীম ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ এম শোয়াইব সহ বিভিন্ন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সিনিয়রদের অংশগ্রহণে গ্র্যান্ড ডিনার অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন চলে।

ফিস্টের শেষ দিন শনিবার সকালে সমাবর্তন চত্বরে কালার ফিস্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরে হলের সুইমিংপুলে পুল পার্টির আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিকেলে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি উন্মুক্ত চা-স্টলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিনামূল্যে চা পরিবেশন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যায়।

সন্ধ্যায় ইমিডিয়েট সিনিয়রদের উদ্যোগে ৫৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সম্মানে বিশেষ গ্র্যান্ড ডিনারের আয়োজন করা হয়। রাতের আয়োজনে ছিল র‍্যাফেল ড্র (লটারি), যেখানে বিজয়ীদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনদিনব্যাপী ফিস্টের সমাপ্তি ঘটে।

হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী ও বাকৃবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাউল হক মিজু বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সিনিয়র, জুনিয়র ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথাগত ভাবে প্রতি বছর হলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে হল ফিস্ট তিনদিনের জন্য হয়ে থাকে।এবারো এর ব্যতিক্রম হয় নি। ক্রিমসন হাইস্ট ফিস্টের মাধ্যমে সিনিয়র এবং জুনিয়রদের মধ্যে মেলবন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধের সম্পর্ক বৃদ্ধি করা,সারাবছরের ক্লাস পরীক্ষার মাঝে একটু বিনোদনের ব্যবস্থার মাধ্যমে মানসিক ক্লান্তি দূর করা, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সেগমেন্টের মাধ্যমে হলের কালচার ফুটিয়ে তোলা, সর্বোপোরি বছরে এই একটি সময় হলের সবাই মিলে উদযাপন করার মধ্যে দিয়ে ফিস্ট সম্পন্ন হয়ে থাকে।আমরা সিনিয়র হিসেবে জুনিয়রদের বিভিন্ন সেগমেন্টে অংশগ্রহন করেছি। এভাবে আমরা চেষ্টা করছি হলের পরিবেশ সুন্দর রাখতে,৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পূর্বের চেয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ এখন ভালোতার প্রমাণ জুনিয়রদের ফলাফল দেখলেই বুঝতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বছরের এরকম একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রথাগত ভাবে যে ফিস্ট কালচার গুলি রয়েছে সেগুলি যেন বজায় রাখি,আমাদের বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, হলের ঐতিহ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ভাই হিসেবে এগুলি যেন সবাই বজায় রাখি,ভিনদেশি সংস্কৃতি পরিহার করে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে সবাই এগিয়ে আসি।

ফিস্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী মো. বিদ্রোহী সরকার বলেন, “এই হল ফিস্ট আমাদের জন্য স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা। বন্ধুদের পাশাপাশি বড় ভাইদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে, যা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।”

আরেক শিক্ষার্থী আহসান কবির সিফাত বলেন, “বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় ভাইদের সান্নিধ্যে এসে অনেক ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে।”

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top