রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারী থানার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর উজ্জ্বল হত্যা মামলার প্রধান ও এক নম্বর এজাহার ভুক্ত আসামি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ওরফে (আনন্দ)(৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার রাত আড়াইটার দিকে র্যাব ১৩-এর একটি চৌকস টিম গোপোন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযান চালিযে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন ।
আজ সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ পাহাড়ায় আসামী আনন্দ কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন আদিতমারী থানা পুলিশ ।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ওরফে (আনন্দ) আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী তালুক দুলালী গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে।
গত ২রা জুন সকালে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারী হলে গুরুত্বর আহত হন উজ্বল, তাকে আহত আবস্থায় প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ কম্পেলেক্স ও পরে রংপুর হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাজান উজ্বল।
চাঞ্চল্যকর উজ্জ্বল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটর পরে, নৃশংস এই হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ০৮ জুন উজ্বলের পরিবার আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দাযের করেন, যার মামলা নম্বর আদিত-০৫ /২৬ইং
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামি আনন্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করে আসছিল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছিল।
র্যব -১৩ সূতে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে র্যব-১৩ জানতে পারে যে, উজ্জ্বল হত্যা মামলার প্রধান আসামি আনন্দ কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানা এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে র্যবের একটি চৌকস আভিযানিক দল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় গতকাল রাতে ফুলবাড়ী থানার দুর্গম ‘গোরপ মন্ডপ’ এলাকায় যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন সময়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করে সুকৌশলে কুখ্যাত এই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা করে র্যব-১৩, আজ সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ওরফে (আনন্দ) কে আদিতমারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদিতমারী থানা পুলিশের হেফাজতে নেযার পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী উজ্জ্বল হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিযেছেন আদিতমারী থানা পুলিশ।
সষ্ট ঘটনায় আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধের পেছনের প্রকৃত কারণ ও অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য আদালতে আসামির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
উজ্জ্বল হত্যা মামলার প্রধান আসামি আনন্দ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসীর মাঝে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটে এবং স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করে প্রধান আসামিসহ জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।