লালমনিরহাটে ধরলার তীব্র ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু,স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ

​রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের মোগলহাটে ধরলা নদীর আকস্মিক ও তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী মানুষ। সাম্প্রতিক বন্যা এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ধরলা নদী এখন রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। নদীর এই ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

০২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ভয়াবহ এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আকস্মিক নদী ভাঙন কবলিত মোগলহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী জনাব আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি।

​পরিদর্শনকালে মাননীয় মন্ত্রী ভাঙন কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন। ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষের মুখে তাদের চরম দুর্ভোগ ও আকুল আকুতির কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও সর্বোচ্চ পুনর্বাসন সহায়তার আশ্বাস দেন।

​পরিদর্শন শেষে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মোগলহাট ইউনিয়নের পানিবন্দী ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি।

​ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, “জনগণের যেকোনো দুর্যোগে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। তবে কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, এই এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় নদী ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী ও মজবুত বাঁধ নির্মাণের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

​দুর্যোগ কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে কোনো পূর্বঘোষণা বা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই মোগলহাট ইউনিয়নের একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। সেখানে তিনি আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন।

মন্ত্রী ক্লাসরুমে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং তাদের পড়া ধরেন। দুর্যোগের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে তিনি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

​এদিকে, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সন্ধ্যায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি মোগলহাট এলাকার এক মেধাবী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবকের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আধুনিক ‘লেনোভো’ (Lenovo) ল্যাপটপ তুলে দেন।

ল্যাপটপ হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী বলেন, “শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাই-বোনেরাও যেন দেশের মূলধারার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”

​আকস্মিক এই দুর্যোগের মুহূর্তে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক উপস্থিতি, খাদ্য সহায়তা এবং পুনর্বাসনের আশ্বাসে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক এ,কে,এম মমিনুল হক, লালমনিরহাট জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক মুহাঃ রাশিদুল ইসলাম প্রধান। জেলা প্রকৌশলী নেতৃবৃন্দ সহ-গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ সাধারণ মানুষ।

 

তবে মোগলহাট ও ধরলা নদীর তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে ঘরবাড়ি হারাতে না হয়, সেজন্য যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদী ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ বা ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top