মো. সাইফুল ইসলাম (মানিক), নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের বাশদাহ বর্মতলপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে একটি চলাচলের রাস্তার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন “জীবন্ত মৃত্যুকূপে” বসবাসের শামিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্মতলপাড়ায় প্রবেশের কোনো উপযুক্ত সড়ক নেই। গ্রামের পূর্বদিকে জলঢাকা উপজেলার বাংলারপুকুর বাজার এবং পশ্চিমদিকে নীলফামারী সদর উপজেলার বসুনিয়ারডাঙ্গা-লক্ষ্মীচাপ এলাকা। মাঝখানে দেওনাই-চাড়ালকাটা নদীর বুক চিরে চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও প্রতিদিন শত শত মানুষ বাধ্য হয়ে সেটি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। উপজেলার শেষ প্রান্তে হওয়ায় এলাকাটি বরাবরই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।
ভুক্তভোগী হরিপদ রায় বলেন, “আমরা প্রায় তিন যুগ ধরে এই দুর্ভোগে আছি। একজন অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে হলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্ষাকালে তো বাড়ি থেকেই বের হওয়া যায় না। কত জনপ্রতিনিধি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেননি।”
স্থানীয় গৃহবধূ মঞ্জু রানী বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন ভয় নিয়ে স্কুলে যায়। বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। আমরা শুধু একটি নিরাপদ রাস্তা চাই।”
শিক্ষার্থী রাহুল রায় জানায়, “বৃষ্টি হলে সাঁকো খুব পিচ্ছিল হয়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।”
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন জমির মালিক স্বেচ্ছায় জমি দিতে সম্মত হয়েছেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে গত ১১ জুলাই প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কাজটি সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয় বলে তাদের দাবি।
শিমুলবাড়ি ইউপি সদস্য সুবাস রায় বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উজানের পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে একটি কালভার্ট নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, “এতগুলো পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন এলাকাবাসীর পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি অর্থায়নে একটি টেকসই সড়ক ও সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। অন্যথায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে শত শত মানুষকে।