অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি:

গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সিআইডি জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, তিনি ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন। তবে পরে জানানো হয়, এ তথ্য এখনো যাচাই-বাছাই চলছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পঞ্চম শ্রেণির পরই লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে তিনি ভারতে যান এবং সেখানে প্রায় নয় বছর অবস্থান করেন। দেশে ফিরে প্রথমে ঢাকার উত্তরায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। পরে পুরোনো এসি কেনাবেচা ও মেরামত এবং সবজি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে চাকরি, বদলি, সরকারি টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে তাওহীদ ইসলাম রাখেন এবং ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জমি কিনে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি গড়ে তোলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ওই অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে ফুলবাড়িয়ায় ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ওই রিসোর্টকে কেন্দ্র করেই নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

২০২২ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মচারীর বদলি সংক্রান্ত ভুয়া ডিও লেটার ব্যবহারের ঘটনায় তদন্তের সময় তার প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। পরে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

তবে ওই ঘটনার পরও তিনি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিজ ধর্মে ফিরে পলাশবাড়ীর একটি কালীমন্দির সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। মন্দিরটির নাম পরিবর্তন করে ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির’ রাখা হয়। সেখানে প্রথমে ৫১ ফুট উঁচু কৃষ্ণমূর্তি এবং পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, প্রকল্পটিতে প্রায় ৪১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পরে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মন্দিরকেন্দ্রিক একটি পরিকল্পিত বৃদ্ধাশ্রম প্রকল্পের সদস্যপদ দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১ হাজার ১ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়েছে। এভাবে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার মানুষ সদস্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত দেড় বছরে হরিদাসের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা এবং একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্য মিলেছে, যার বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত ১২ জুলাই পলাশবাড়ীর মন্দির এলাকা থেকে তাকে আটক করে সিআইডির বিশেষ দল।

 

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top