২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শিক্ষা,ভবিষ্যৎ ও ২০২৬:সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে নতুন বছরের প্রত্যাশা

মোহাইমিনুল হাসান,ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:

নতুন বছর ২০২৬ কে ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশা ও প্রত্যাশার আবহ তৈরি হয়েছে।শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন,নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম,আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি—এসব বিষয়েই গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সোহরাওয়ার্দী কলেজস্থ ময়মনসিংহ বিভাগীয় ছাত্র কল্যান পরিষদ এর সাধারন সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বলেন,শিক্ষা মানুষের চিন্তা,চরিত্র ও সক্ষমতা গড়ে তোলে। একটি জাতির উন্নতির ভিত্তি হলো আধুনিক ও মানবিক শিক্ষা।২০২৬ সালের বিশ্ব হবে জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর,যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাই শিক্ষাকে শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবজ্ঞান,সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে উঠলেই শিক্ষার্থীরা হবে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক।

সোহরাওয়ার্দী কলেজ ডিবেটিং ক্লাব এর সভাপতি আওলাদ জিসান বলেন,২০২৬ সাল আমার কাছে শুধু নতুন বছর নয়;সোহরাওয়ার্দী কলেজকে নতুনভাবে ভাবার সময়।আমি এই কলেজকে আধুনিক,মানবিক ও আত্মবিশ্বাসী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে দেখতে চাই।প্রাণবন্ত শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য চারটি বাস,আবাসন সংকট নিরসনে দুটি হল প্রকল্প এবং দ্রুত ক্যাফেটেরিয়া চালু হোক এই প্রত্যাশা।

২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা আলম বলেন,কলেজ পর্যায়ে ক্যারিয়ার গাইডলাইন,স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ইন্টার্নশিপ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০-২১সেশন এর শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন,২০২৬ সালে আমাদের প্রত্যাশা—সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে গুণগত ও বাস্তবমুখী শিক্ষা।আধুনিক লাইব্রেরি, ল্যাব ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চাকরিপ্রার্থী নয়,কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হবে।
একই সঙ্গে চাই সন্ত্রাসমুক্ত,সেশনজটমুক্ত ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ক্যাম্পাস—যেখানে শিক্ষা,সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ গড়ে উঠবে।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল আমীন বলেন,২০২৬ সালে এসেও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। না আমরা পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের, না স্বতন্ত্র কলেজ ব্যবস্থার—ফলে সেশনজট ও একাডেমিক সংকট চলছে।
এই অবস্থায় “ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়” গঠন সময়ের দাবি। সাত কলেজকে একীভূত করে স্বতন্ত্র প্রশাসন চালু হলে শিক্ষার স্থিতিশীলতা আসতে পারে। সিদ্ধান্তহীনতা চললে একটি প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


২০২৬ যেন হারানো সময় না হয়—এ জন্য এখনই স্পষ্ট রোডম্যাপ ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে স্পষ্ট—নতুন বছরে তারা একটি আধুনিক,শিক্ষাবান্ধব ও ভবিষ্যৎমুখী সোহরাওয়ার্দী কলেজ দেখতে চায়,যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top